অরিন্দম লাহিড়ী’র কলমে
গত ৮ জুলাই রাত সাড়ে দশটা নাগাদ, লকডাউন-কার্ফু না মানার জন্য গুজরাত রাজ্যের এক সবান্ধব মন্ত্রীপুত্রের গাড়ি আটকে কিছু প্রশ্ন রেখেছিলেন গুজরাত পুলিশের এল আর অফিসার সুনীতা যাদব। তারপর সোশ্যাল মিডিয়ার গ্রুপে গ্রুপে যেই বার্তা রটি গেল ক্রমে, সুনীতা পরিচিত হলেন লেডি সিঙ্ঘম নামে। সুনীতা নিজে অবশ্য এই ট্যাগ মানতে চাননি। তবে মানুষ ভালবেসে তাঁকে নাম দিয়েছেন, তাই তিনি খুশি। বলেছেন, “আমি কোনও লেডি সিঙ্ঘম-টিঙ্ঘম নই, সামান্য একজন এল আর অফিসার। খুব বেশি পুলিশ এমনটা করেন না বলেই মানুষ এ সব বলছেন। ভাল লাগছে”।
সুনীতা এবার আই পি এস পদপ্রার্থীর পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্ততি নেওয়া শুরু করার কথা ভাবছেন। তাঁর অনুভব, “আগে ভাবতাম, এই খাকি উর্দিটাতেই অনেক ক্ষমতা। ওই দিনের ঘটনা আমাকে শিখিয়েছে, ক্ষমতা আসে পদমর্যাদা থেকেই। সেই পদমর্যাদা নিয়ে ফিরে আসব। ওই দিনের সামান্য ঘটনাটা চিউয়িং গামের মতো টেনে টেনে বাড়ানো হচ্ছে, কারণ আমার কোনও ব্যাঙ্ক নেই”।
সোশ্যাল মিডিয়ায় যতই মাতামাতি হোক, ওই রাতের পর থেকেই বেশ মানসিক চাপে রয়েছেন তিনি।
ভি ভি আই পি-কে ঘাঁটানোর ঘটনা ঘটানোর ফলে কী হচ্ছে, তা প্রমাণ করা না গেলেও, অনুমান শক্ত নয়। আই পি এস হওয়ার স্বপ্ন তো আগেও দেখতেন। এখন গুরুত্বটা অনুভব করছেন।
বলিউড-ইত্যাদির নেপোটিজম-ফেভারিটিজম নিয়ে যারা এত এত মাথা ঘামাচ্ছেন, সুনীতার এই ‘ভাইরাল ভিডিও’ দেখে তাঁরা কি কেউ ধরতে পারছেন, আমাদের স্থায়ীভাবে ওয়র্ক-ইন-প্রোগ্রেস গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায়, আরও কতটা লম্বা পথ পাড়ি দেওয়া বাকি? নাকি সব পথ এসে, মিলে গেল শেষে, শুধু বলিউডেই?
বিশেষ কলাম ‘আমি আগন্তুক’-এ অতিথি লেখক

অরিন্দম লাহিড়ী
Arindam Lahiri is a postgraduate in Comparative Literature from Jadavpur University, and a copywriter by profession. He started his advertising career seven years ago at Ogilvy. Since then, Arindam has worked in major campaigns for brands like Anandabazar Patrika, Star Jalsha, Fevicol, Eno, Pantaloons, Asian Paints, Vodafone, Amazon and Tata Sky. He writes on politics and the culture industry.









