লেখা – সুপর্ণা ঘোষ
ছবি – শতাব্দী মুখার্জী
অদ্রিজা মুখার্জী – চার বছরের এই ছোট্ট মেয়েটির হাতের লেখা দেখে প্রথমেই আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম, এত ছোট্ট বাচ্চার এত সুন্দর হাতের লেখা! তারপর ধীরে ধীরে ওর গুণগুলো প্রকাশ পেতে লাগলো। অদ্রিজা আঁকেও খুব সুন্দর আর পুরোটাই নিজের ভাবনা দিয়ে, বিশেষ করে রঙ করার ক্ষেত্রে ও কারোর কথাই শোনে না। তারপর যখন কবিতা পাঠ শুনলাম মনে প্রশ্ন জেগেছিল-এত বড় বড় সব কবিতা এত সুন্দর মুখস্থ করে কি ভাবে আর সেটা মনে রেখে এমন সুন্দর ভাব দিয়ে বলেই বা কি করে? জানলাম, নিজেই বুঝে নেয় কবিতার মানে তারপর নিজের মত করেই বলে! এ হেন কন্যা্র এই অপূর্ব সব কর্মযজ্ঞ, সবা্র সামনে তুলে ধরতে তো ইচ্ছেই করে! কথাই তো আছে ট্যালেন্ট কখনও চাপা থাকে না- কন্যার মা শতাব্দী মুখার্জী(শিক্ষিকা, দুর্গাপুর ওমেন্স কলেজ)জাতীয় ও রাজ্যের কিছু প্রতিযোগীতায় ওর আঁকা, হাতের লেখা, কবিতা পাঠ পাঠিয়ে দেয়। বর্তমান পরিস্থিতি যেহেতু অত্যন্ত প্রতিকূল তাই সব প্রতিযোগীতাই অন লাইনে হয়েছিল।
হাতের লেখা, আঁকা ও কবিতা পাঠ- তিনটেতেই অদ্রিজা তাক লাগিয়ে দেয় রাজ্য ও জাতীয় স্তরে, তাক লাগিয়ে দেয় দেশবাসীকেও। কবিতা পাঠের জন্য নবভারত রাষ্ট্রিয় জ্ঞানপীঠ পুরষ্কার পায়। সেন্টার ফর এডুকেশন ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ (পুনে) থেকে আঁকার জন্য পায় পুরষ্কার। হাতের লেখার জন্য পায় ন্যাশেনাল লেভেল পুরষ্কার, সারা দেশের মধ্যেই তৃতীয় স্থান অধিকার করে। এই প্রতিযোগীতা ছিল মাদার্স ডে র উপরে।শুধু তাই ই নয়, ফাদারস ডে ও ডক্টরস ডে তেও আঁকার জন্য ওর ঝুলিতে আসে পুরষ্কার।
অদ্রিজা পড়াশুনা করতেও খুব ভালোবাসে, যদিও এখন খুব ছোট তবুও ক্লাশের ফলাফলও যথেষ্টভাবে উল্লেখ করার মতই, স্কুলের টিচাররা অদ্রিজাকে খুব ভালোবাসে ওর শান্ত স্বভাবের জন্য। আশা রাখি অদ্রিজা ওর এই গুণগুলোকে সঙ্গে নিয়েই যত বড় হবে ততই একজন ভালো মানুষও তৈরি হবে। আজকাল যে ভালো মানুষ বড়ই প্রয়োজন।


সুপর্ণা ঘোষ
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখক-ফোটোগ্রাফার সুপর্ণা ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে বহু নামজাদা ম্যাগাজিনে লিখেছেন। কবিতার জন্য পরপর দু’বার পেয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ পোয়েট্রি (আমেরিকা)-র আউটস্ট্যান্ডিং এ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার। ইন্টারন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ ফোটোগ্রাফি থেকে পেয়েছেন গোল্ড ব্রোচ। NASA-র পেজ-এ তাঁর তোলা ছবি দেখা যায়। স্বীকৃতি পেয়েছেন ইংল্যান্ড-এর রাজপরিবার থেকে, রাণী এলিজাবেথ পাঠিয়েছেন শুভেচ্ছাবার্তা। ফোটোগ্রাফির জন্য সম্মানিত হয়েছেন রাশিয়াতেও। দুর্গাপুরের মেয়ে সুপর্ণার স্কুল-কলেজ-বেড়ে ওঠা ওই শহরেই। বেশ কিছুদিন কাটিয়েছেন কানাডায়। এখন কলকাতার বাসিন্দা।









