
আর্চিক কুন্ডুর বয়স সবে সাড়ে তিন বছর ( ২০১৮ র ১২ই জানুয়ারি )। ১২ই জানুয়ারি বলে ওকে আরও একটা নামে অনেকেই ডাকে – বিলে। আমাদের সবার প্রণম্য স্বামী বিবেকানন্দর জন্মদিনও যে ১২ই জানুয়ারি আর তাঁর নামও যে বিলে।
এত ছোট্ট মানুষটার আঁকা ও হাতের কাজ আমায় মুগ্ধ করেছে তো বটেই তার সাথে বহু জনের মন জয় করে নিয়েছে। নিজের মনেই, আপন খেয়ালে এঁকে চলে আর্চিক। কখনও জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা তো কখনও মা দুর্গা সপরিবারে, কখনও নিজের হাত, পা ই এঁকে ফেলছে, কখনও বা পাতা দিয়ে গণেশ তৈরী করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে সবাইকে। হ্যাঁ, গণেশের কান আর শুঁর তৈরী তে বিলের মা সমর্পিতা সরকার কুন্ডু (যিনি সরকারি স্কুলের অঙ্কের শিক্ষিকাও বটে ) অল্প সাহায্য করেছেন ঠিকই কিন্তু পুরোটাই প্রায় খুঁদে শিল্পীর তৈরী।
ওর কিছু মজার মজার উত্তর সবার মনে আনন্দ এনে দেয়- আজকাল এই অসহ পরিস্থিতিতে এই আনন্দ আরও সবার মাঝে বিলিয়ে দিতে পারলে সব্বার ভালো লাগবে বলেই আমার মনে হয়।
মা দুর্গাকে সপরিবারে এঁকে দেখিয়েছে, দেখা গেলো গণেশ সেই আঁকায় অনুপস্থিত, জিজ্ঞেস করতে উত্তর এলো, গণেশর ঘুম পেয়েছে তাই চলে গেছে।
আবার আঁকা এনে বললো, এই যে রাধা কৃষ্ণ.. কিন্তু রাধা নেই তো ছবিতে?! অম্লান বদনে ছোট্ট বিলে উত্তর দিয়েছিলো, রাধা ডিম কিনতে গেছে!
ছোট্ট মানুষটার এই ভাবনা গুলো সবার মনে অনাবিল আনন্দ এনে দেয় আর ভাবি সত্যি, আমরা বড়রা যদি এমন ছোটদের মত করে ভাবতে পারতাম তাহলে এই বিশ্বে অর্ধেক সমস্যা থাকতোই না।
***
সুপর্ণা ঘোষের ফোটো-স্টোরি ‘সুমুখ’।
ছবি ঋণ – সমর্পিতা কুন্ডু









