লেখা ও ছবি – সুপর্ণা ঘোষ
বেশ কিছুদিন আগেই শুনেছিলাম আসানসোলে ওয়াক্স মিউজিয়াম আর শিশমহলের কথা। ঠিক করেছিলাম যেমন করেই হোক দেখে আসতে হবে দু’টোই। বিশেষ করে যখন শুনলাম, বর্তমানে মানে এখনের সময়ে তৈরি শিশমহল এই আসানসোলেরটাই প্রথম! এর আগে সেই রাজা–বাদশাদের আমলে শিশমহলের কথা তো সব্বাই জানি।
আরে বাঃ, এ তো ভারি রোমাঞ্চকর ব্যাপার! তার উপরে, এ শিশমহল আবার নিখাদ এক বাঙালী শিল্পীর তৈরি, ওয়াক্স মিউজিয়ামও তাঁরই তৈরি। নাম শ্রী সুশান্ত রায়। তাই ওনার নামেই মিউজিয়ামটির নাম।
মোম-মিউজিয়াম
অবশেষে সেই সৌভাগ্য হয়েছিল গতবছরের ডিসেম্বর মাসে ( ২০২১-এর ২৯শে ডিসেম্বর )। বিকেলের দিকে আমরা পৌঁছলাম মিউজিয়ামে। জনপ্রতি ১০০ টাকা টিকিট করে প্রথমে প্রবেশ করলাম ওয়াক্স মিউজিয়ামে। একতলায় এটি আর দোতলায় শিশমহল। উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন, অমিতাভ বচ্চনের “কোন বানেগা ক্রোড়পতির” সেট, নিরজ চোপড়া, ফুটবলার শৈলেন মান্না, রোনালডিনহো, বাংলার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, সুভাষ চক্রবর্তী ইত্যাদি অনেকের মোমের মূর্তি দেখতে দারুন লাগল।

শিশমহল
তারপর চললাম দোতলায় শিশমহল দেখতে। একঝাঁক দর্শনার্থী বেরিয়ে যাওয়ার পরে আমরা প্রবেশ করলাম এবং বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলাম! অসাধারণ, অনবদ্য এই শিশমহল! কত যত্ন নিয়ে যে শিল্পী এটা তৈরি করেছেন, তা না দেখলে বিশ্বাস করাই কঠিন! সিংহাসনের মত চেয়ারটায় বসে সত্যিই নিজেকে কেমন মহারাণী মনে হচ্ছিল! মেঝে পর্যন্ত আয়না কাঁচ দিয়ে তৈরী, দরজার কাছে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছে সত্যিই বুঝি কোনও রাজা–বাদশার শিশমহলে প্রবেশ করলাম। বিস্ময় ভরে কতক্ষণ যে দেখেছি!
শিল্পী-সাক্ষাৎ
বাইরে বেরিয়ে আর এক চমক অপেক্ষা করেছিল আমাদের জন্য। সাক্ষাৎ হল শিল্পী সুশান্ত রায়ের সাথে। এ এক পরম পাওনা। কথা হল কিছুক্ষণ। ফিরে আসার সময় অবশ্যই মনে হয়েছে অন্তত শিশমহলটি দেখতে আরও বার কয়েক যাওয়াই যায়।
হলফ করে বলতে পারি, এই ওয়াক্স মিউজিয়াম ও শিশমহল ছোট থেকে বড় সব্বার ভালো লাগতে বাধ্য।
মনে রাখবেন
ওয়াক্স মিউজিয়াম ও শিশমহলের ঠিকানা – ১ নং মহিশীলা কলোনী, অরবিন্দপল্লী মোড়, আসানসোল, জেলা – পশ্চিম বর্ধমান।
দেখার সময় – সকাল ১১ টা থেকে সন্ধ্যা ৭.৩০ মিনিট পর্যন্ত।
টিকিট – ১০০ টাকা
হাত থেকে মোবাইল ফোন বা কোন ভারি জিনিস পরে গিয়ে যদি শিশমহলের কাঁচ ভেঙে যায় তার জন্য ১০০০ টাকা জরিমানা।

সুপর্ণা ঘোষ
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখক-ফোটোগ্রাফার সুপর্ণা ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে বহু নামজাদা ম্যাগাজিনে লিখেছেন। কবিতার জন্য পরপর দু’বার পেয়েছেন ইন্টারন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ পোয়েট্রি (আমেরিকা)-র আউটস্ট্যান্ডিং এ্যাচিভমেন্ট পুরস্কার। ইন্টারন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ ফোটোগ্রাফি থেকে পেয়েছেন গোল্ড ব্রোচ। NASA-র পেজ-এ তাঁর তোলা ছবি দেখা যায়। স্বীকৃতি পেয়েছেন ইংল্যান্ড-এর রাজপরিবার থেকে, রাণী এলিজাবেথ পাঠিয়েছেন শুভেচ্ছাবার্তা। ফোটোগ্রাফির জন্য সম্মানিত হয়েছেন রাশিয়াতেও। দুর্গাপুরের মেয়ে সুপর্ণার স্কুল-কলেজ-বেড়ে ওঠা ওই শহরেই। বেশ কিছুদিন কাটিয়েছেন কানাডায়। এখন কলকাতার বাসিন্দা।









