আর্ট ডিরেকশন : প্রণয় সাহা
আমি কোনও বড় কথা বলতে চাই না।
নন্দনতত্ত্ব, সমাজবিদ্যা, সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন, শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস, শিল্পের বিশ্বাসঘাতকতা, কবির মেরুদণ্ডহীনতা, আমলাদের সরীসৃপ চলন, নেতৃত্বের অন্ধতা, পার্টির সংশোধনবাদ–
এ সমস্ত নিয়ে আর একটি শব্দও উচ্চারণ করব না আপাতত।
আমি এখন এই চার দেওয়ালের কথা বলব,
যেগুলো খুব এলোমেলো ভাবে একে অপরের ঘাড়ে উঠে পড়েছে।
আমি পালে পালে পালানো মানুষের কথা বলব,
যারা আতঙ্কের প্রহর গুনতে গুনতে যাবতীয় হিসেব গুলিয়ে ফেলেছে।
এমন দূরতর ধ্বংসের দ্বীপ,
অজস্র ছড়িয়ে চারদিকে।
সীমান্ত থেকে সীমান্তে,
আবারও কিছু উলুখাগড়ার স্রোত আছড়ে পড়ছে।
কোনও কোনও কাঁটাতারে প্রহরীরা অতিথিবৎসল,
কি সুন্দর ঝুলিয়ে রেখেছে তাদের নিজস্ব শর্তের শৃঙ্খল।
কোনও কোনও কাঁটাতারে নিদারুণ শত্রুশিবির।
আমি কোনও ধর্মের কথা বলতে চাই না।
আমি কোনও জন্তুর কথা বলতে চাই না।
আমি কোনও অন্যায়ের কথা বলতে চাই না।
আমি কোনও ধূর্ততার কথা বলতে চাই না।
আমি কোনও আগামী আশঙ্কার কথা বলতে চাই না।
আমি এই লাখো লাখো যুদ্ধবন্দী মানুষের কথা বলব।
যাদের কণ্ঠস্বর ওই পার্টির সংশোধনবাদ, নেতৃত্বের অন্ধতা, নন্দনতত্ত্ব, সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন, আমলাদের সরীসৃপ চলন, কবির মেরুদণ্ডহীনতা, সমাজবিদ্যা, শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস, শিল্পের বিশ্বাসঘাতকতা–
এমন ভারী ভারী শব্দের নীচে
বহুযুগ হল চাপা পড়ে আছে।









