সুমন হাইতে’র কলমে
“কাঁঠালের আমসত্বের কথা শুনেছিস? বা ওই কি যেন বলে……. হ্যাঁ, ওই সোনার পাথরবাটি? বলি, শুনেছিস তো এদের কথা? তোদের ওই ঢঙের ভার্চুয়াল এডুকেশন হল অনেকটা সেরকম।
এর অ্যাকচুয়াল ভার্চু যে কি তা বাপু বলতে পারবো না। তবে একটা কথা তোকে আমি হলফ করে বলতে পারি, স্রোতে ভাসা প্রাণীর কাছে খড়কুটোই ঢের। তবে তাকে দেখে মনে বল জোটে বটে, কিন্তু ফল কি
আদৌ মেলে?
ওরে মানিক আমার, যে দেশে স্কুলে ছেলে পাঠাতে খাবারের আয়োজন রাখতে হয়, সে দেশের লোকের কাছে ভার্চুয়াল শিক্ষা চাখার না মাখার বস্তু সেটাই তো ভাবার বিষয় ! তাদের ভাবনাটা খানিকটা এমন,….. সে নাহয় ছেলেমেয়েরা যাহোক দুটো শিখবে, তবে দুপুরে দু মুঠো গরম ভাতের ব্যবস্থা না থাকলে কি চলে? তাও আবার এই অকাল আকালে???”
খানিক থেমে আবার শুরু হয়, “আরে ভাই, বাস্তবটা তো আমি কিছু কম বুঝি না! নয় নয় করে ছ`টা বছর জীবনের নয়ছয় করে ফেললাম ওই ধাপধাড়া গোবিন্দপুরে চাকরি করে। ভাই, তোকে বলবো কি, সে এক এমন জায়গা যেখানে ছাত্ৰরাতো কোন ছাড়, গার্জেনরাও স্কুলে আসে চাল, চুলোর খবর নিতে ; মানে ওই চাল মজুত কিনা আর চুলো জ্বলবে কিনা !
আর তার সাথে ব্যাগ, জামা, জুতো, খাতা, ছাতা, সাইকেল, টাকা…..
এসব তো রয়েছেই।
…… মাঝে মধ্যে ভাবি, বুঝলি তো, আমরা কি আদৌ শিক্ষাদান করতে যাই তো, নাকি ত্রাণ বিলোতে?…… আর তুই ঝাড়ছিস ভার্চুয়াল এডুকেশনের বুলি?………যেখানে ছেলেমেয়েরা ইংরেজিতে নাম লিখতে শিখলেই বাপ্-মায়ের গর্বের শেষ নেই, সেখানে একথা বড় বেমানান রে ভাই!”
দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার বলে চলে, “আসলে ব্যবস্থার ব্যবচ্ছেদ করতে করতে মানে সিস্টেমের কাটাছেঁড়া করতে করতে এমন এক অদ্ভুত জায়গায় পৌঁছেছে এই শিক্ষাব্যবস্থা, যার পুরো দেহটাই অস্ত্রোপচারে ভর্তি ; লাগাতার কাটাছেঁড়ায় সে জেরবার। এভাবে তলে তলে অতলে পৌঁছাচ্ছি রে আমরা….. আমরা সবাই। ……অতিমারী তো মাসকয়েকের সমস্যা। সে আজ নাহয় কাল তো মিটবেই। আসল রোগটা তো আরো গভীরে, যেখান অব্দি ভ্যাকসিনের ডোজও গিয়ে পৌঁছাবে না।……………….এমন এভারেস্টসম ভ্রম নিয়েও এরা সম্ভ্রম আদায়ের চেষ্টা করে !!!”
আক্ষেপের পরে আচমকা সম্বিৎ ফেরে,”তুই তো নিজেও শিক্ষিত।সব জানিস। তবুও যে কেন আমায় সাতসকালে ঘাঁটাস?”বলেই চায়ের দামটা মিটিয়ে হাঁটা দেয় দীপুদা।
ও, আসলে হয়েছেটা কি,….. আমি সক্কাল সক্কাল মন্টুদার চা দোকানে গিয়ে আমাদের দীপুদা মানে দীপেন বসাককে বলেছিলাম, “আচ্ছা মাস্টারদা, এই ভার্চুয়াল এডুকেশনটা কি আমায় একটু বলবে? মগজে ঠিক ঢুকছে না।”…….ব্যস, ওটুকুই। বাকিটাতো আপনারা পড়লেনই !

সুমন হাইত
স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় সেভাবে লেখার অভ্যাস বা অবকাশ কোনোটাই হয়ে ওঠে নি। এরপর চাকরি খোঁজার মরিয়া প্রচেষ্টায় পরের কয়েক বছর পার। স্কুল শিক্ষক হিসেবে কর্মরত হওয়ার পরে অল্পস্বল্প লেখার অভ্যাস তৈরি হয়। তাও অবরেসবরে। প্রতিদিন নিয়ম করে পেন, খাতা নিয়ে বসার অভ্যাস আজও ঠিকমতো গড়ে তুলতে পারলাম না। না, এর জন্য সময়কে কাঠগোড়ায় না তুলে অভিযুক্ত করবো নিজে চপল মানসিকতাকে। তার অর্থ ওই….. ভালো লাগলে লিখি, আর না লাগলে লিখি না। ব্যাস, এটুকুই। আর এটুকুতেই যদি কিছু পাঠকের মনে ছাপ ফেলতে পারি, তবে সে আমার পরম প্রাপ্তি। পাঠকের স্বস্তি ও আশীষই তো এক উঠতি লেখকের সম্বল। তাকেই পাথেয় করে এগোতে চাই, আমি, সুমন হাইত।









