অরিন্দম লাহিড়ীর কলমে
অলঙ্করণে – সুমিত দাস
আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কোভিড মোকাবিলার অভিজ্ঞতা গোটা বিশ্বের সঙ্গে ভাগ করে নেবে ভারত। কী ভাবে এই দেশে কোভিডের মোকাবিলা করা হল, তা অধিকাংশ ভারতবাসী হাড়ে হাড়ে বুঝেছেন। অবশিষ্ট পৃথিবীর কাছেও সেই অভিজ্ঞতার স্বাদ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর অনুরাগীরা নিশ্চয়ই ধন্যবাদ জানাচ্ছেন।
শুধু শুধু প্রধানমন্ত্রীর নিন্দুকেরা ‘ভ্যাক্সিন নেই, ভ্যাক্সিন নেই’ করে চেঁচিয়ে গোটা দেশ মাথায় করছেন। তাঁরা কি দেখতে পাচ্ছেন না যে, ‘চার চাকায় চড়ে চলে আসুন, ভ্যাকসিন নিন, আবার চার চাকায় চড়ে নিশ্চিন্তে ফিরে যান নিজের বাড়িতে’– এভাবেই ভ্যাকসিনের পসরা সাজিয়ে বসে আছে ভারতের বহু শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল? হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে গ্রুপে রটে যাচ্ছে তাদের বিজ্ঞাপনবার্তা, উদ্বিগ্ন উচ্চমধ্যবিত্তের পৃথিবীতে বয়ে আনছে আশ্বাসের বাণী। বিরোধীদের কি এসব কিছু চোখে পড়ে না? অন্যদিকে দিল্লি, ব্যাঙ্গালোর, হায়দ্রাবাদ, কলকাতার মতো শহরে ভ্যাক্সিন অমিল হয়ে পড়ছে কিছু কিছু বেসরকারি হাসপাতালেও, কারণ একের পর এক কর্পোরেট সংস্থা তাদের কর্মী ও কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য পাইকারি হারে ভ্যাক্সিন কিনে নিচ্ছে।
এর পাশাপাশি, দেশ জুড়ে অনেক সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঝুলে যাচ্ছে ভ্যাক্সিনেশন বন্ধের নোটিস। দীর্ঘ লাইনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষারত মানুষ বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন হতাশ মুখে। তাঁদের কারওর তো আর চারচাকা নেই। আর তাঁদের যে চারচাকা নেই, সে দায়ও কি প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে? সত্যি কিছু বলার নেই।









