অভিষেক মজুমদার-এর ফেসবুক স্টেটাস থেকে,
বেনারস, ৩০ মে, ২০২১
অনুবাদ – অরিন্দম লাহিড়ী
ছবি – রোহিত দত্ত রায়
গতকাল রাতে, বেনারসে, পণ্ডিত নারায়ণ তিওয়ারি প্রয়াত হলেন। তিনি একজন পুরোহিত, এমন এক সময়ে তিনি বিনামূল্যে মানুষের শেষকৃত্য করেছেন, যখন অন্যান্য পণ্ডিতরা সে কাজের জন্য চল্লিশ হাজার টাকা পর্যন্ত দক্ষিণা চাইছিলেন, ও পাচ্ছিলেন।
চার সপ্তাহ আগে তাঁর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল। সেদিন আমরা ১৬ জন মানুষের মৃতদেহ শ্মশানে পৌঁছে দিয়েছিলাম, এ ছাড়া তিনি আরও অনেকগুলি সৎকার সম্পন্ন করেছিলেন, প্রতিদিনের মতোই।
দু’সপ্তাহ আগে, ওঁর ওপর আমি খুব রেগে গেলাম। পারলৌকিক কাজের কোনও একটা উপকরণ জোগাড় করে দেওয়ার জন্য আমাদের এক ভলান্টিয়ারকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিলেন। জিনিসটা কিছুতেই পাওয়া যাচ্ছিল না।
আমাদের মধ্যে একপ্রস্থ কথা কাটাকাটি হল এবং রাত্রে তিনি আমাকে ফোনে বললেন, শোনো, এইসব ব্যাপারগুলো আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি বললাম, আপনাকে আমি এইগুলো করতে সাহায্য করছি মানে এই নয় যে, পারলৌকিক অনুষ্ঠান বা আত্মা-টাত্মাতে আমি বিশ্বাস করি। আমরা এগুলো না করলে এদের পরিবারের লোকেরাই রাস্তায় বেরিয়ে পড়বে।
নারায়ণ তিওয়ারি উত্তর দিলেন, তুমি আত্মায় বিশ্বাস করো না মানে এই নয় যে, আমার আজীবনকালের সব শিক্ষাদীক্ষা আমি ত্যাগ করব। আমি বললাম, আপনি যা খুশি করুন, কিন্তু একটা পানপাতার জন্য আমার দলের কেউ মাথা খুঁড়ে মরতে পারবে না।
এরপর, তিনি আর আমি একসঙ্গে আরও সাতজনের শেষকৃত্য করেছি। একদিন আমরা খাটতে খাটতে কান্ত হয়ে হেসেই ফেললাম। সেদিন আমরা একটানা ৩৫ ঘন্টা কাজ করেছি। আমি তো তা’ও বাড়ি ফিরতাম, নারায়ণ তিওয়ারি ঘাটেই থেকে যেতেন।
একবার তিনি আমাকে বললেন, তুমি মরলে আমি তোমাকে পানপাতা ছাড়াই পোড়াব। আমি বললাম, আমি তো পান খাই, আপনি বরং পানটা আমার মুখে গুঁজে দেবেন, আমার ভাল লাগবে। একের পর এক, একটানা মৃত্যুর মধ্যে দাঁড়িয়ে আমরা রোজ এভাবেই নিজেদের মধ্যে হাসি-মস্করা করতাম।
গতকাল রাতে, বেনারসে, পণ্ডিত নারায়ণ তিওয়ারি প্রয়াত হলেন। আজ সন্ধেবেলা তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। আমরা পানপাতা জোগাড় করে রেখেছি।
একজন মহান মানুষ, যিনি নিজের জীবনের পরোয়া না করে, এক টাকাও দক্ষিণা না নিয়ে, এই চরম দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এঁরাই আস্তিক। প্রকৃত আস্তিক।
তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তাঁর বন্ধুতা ও স্নেহ চিরদিন স্মরণে রাখব। যদি পারেন, আপনারাও তাঁকে মনে রাখবেন।

অরিন্দম লাহিড়ী
Arindam Lahiri is a postgraduate in Comparative Literature from Jadavpur University, and a copywriter by profession. He started his advertising career seven years ago at Ogilvy. Since then, Arindam has worked in major campaigns for brands like Anandabazar Patrika, Star Jalsha, Fevicol, Eno, Pantaloons, Asian Paints, Vodafone, Amazon and Tata Sky. He writes on politics and the culture industry.

Rohit Dutta Roy
Rohit Dutta Roy is a Doctoral scholar at the Faculty of History, University of Cambridge. He began his doctoral research at Cambridge after completing an MPhil in Modern History from the Centre for Historical Studies, Jawaharlal Nehru University. Rohit has First Class BA and MA degrees in Comparative Literature from Jadavpur University, and a First Class Master’s in History from the University of Delhi. His stories on politics and policy have appeared in The Wire, Newslaundry and The Citizen. Rohit writes on the everyday political, policy history, identity formation and governmentality.









