পর্ব – ২, লঙ্গিচুড – ল্যাটিচুড
দেশপ্ৰিয় রায়ের কলমে
আর্ট ডিরেকশন – প্রণয় সাহা
শিরোনাম-অঙ্কন – প্রসেনজিৎ বেরা
প্রেম ছাড়া তো আর সময় বদলের কাহিনী লেখা যায় না। ২০১৮ সালের নেতাজী জন্মজয়ন্তীর দুপুরে গাল বেয়ে নেমে আসা অনুভূতিগুলো কথায় বাধার চেষ্টা করছি মাত্র।
লঙ্গিচুড
ছেলেবেলা আর বড়বেলার সবকিছু এতদিন যে সুতোটা দিয়ে বাঁধা ছিল সেটা নিয়মমাফিক নিজে থেকেই ছিঁড়ে গেল। সেটা আটকাবার যে কম চেষ্টা এতরফে হয়েছিল তাও নয়। এই লেখাটা সেই বাঁধন ছেঁড়ার বেদনার ঝংকার নয়; কিছু উপলব্ধির কথা মাত্র।
সূর্য যেমন নিজে জ্বলে অন্যদের আঁধার দূর করে তেমনি সে অন্যের সিঁদুরে রাঙা হয়ে আমার আঁধার ঘুচিয়ে দিয়ে গেল, দিয়ে গেল একরাশ নতুন আশার আলো। এখন মনে হচ্ছে সে কাছে থাকলে হয়তো এই আলোর রোশনাইতে নিজেই নিঃস্ব হয়ে যেতাম, তার থেকে এই বেশ ভালো– আজ সেই আলোয় চারদিকটা বেশ ঝলমলে আর রঙিন হয়ে উঠেছে।
চাঁদমালা জলে ভাসলেও তাঁর উপস্থিতি সব সময় দেবীর কথাই বলে। নিজে হাতে করে দেবীকে সাঁঝবাতি দেখানো বা নাই হোলো, তাই বলে কি দেবীর বেদী অন্ধকার থাকবে! যোগ্য লোক’ই সেই দায়িত্ব পেয়েছে; যার পাওয়ার কথা ছিল দেবাধিদেবের লিখনে। মহাদেবের বিধান আর সিদ্ধান্ত্বে কোনও ভুল থাকতে পারে না। ভুল যদি কিছু হয় তাহলে তা তাঁর ভক্তের প্রেমাতিসজ্জের অতিরঞ্জিত আশায়।
তবু আরএকটিবার বলতে চাই,
“অমরত্বের প্রত্যাশা নেই, নেই কোন দাবী দাওয়া,
এই নস্বর জীবনের মানে শুধু তোমাকে চাওয়া।“
ল্যাটিচুড
নয় নয় করে প্রায় সাড়ে নয় বছর হতে চললো, ক্যালেন্ডারের হিসেব ধরলে পাক্কা 3,৫৮২ দিন।
সেই দিনটাতে তোর সৌম্যদিপ্ত প্রেমিকের কাছে উন্মত্ত মার খাওয়ার পরেও সেই আঘাতগুলোর ব্যথা, রক্ত কোনোটাই সেরকম কষ্ট দেয়নি।
কষ্ট দিয়েছিল সেদিনে বলা তোর মিথ্যে কথাগুলো। তার ব্যথা আজও সমানভাবে রয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত শিরায় শিরায় বয়ে শূন্য করে দেয় ভেতরটাকে।
কিন্তু,
তোর জন্য ভালোবাসাটা সেই 26 শে ডিসেম্বরের ঘটনাটার আগের মুহূর্তে যেমন ছিল, আজ তার থেকে এক ফোঁটাও কমেনি; বরং সময়ের সাথে সাথে বেড়েছে দশ হাজার গুণ বা তারও বেশী।
আজ দেখ, কাছে থেকেও তুই কত্ত আলোকবর্ষ দূরে। অন্য ছায়াপথের কোনো এক সৌরজগতের বাসিন্দা তুই এখন।
সেখানে সময়চক্র আলাদা, জীবনচক্র আলাদা, বাসিন্দারা আলাদা… তবে সবটাই তোর, তোর নিজের, তোর জন্যই তো ওই ছায়াপথটার সৃষ্টি।
তাই নয় কি!
সেখান থেকে ফেরা যায় না, আর সেখানে অন্যকারোর যাওয়ারও অধিকার নেই।
সেদিন তুই বলেছিলি আমার সাহস নেই সবার সামনে ওই কথাগুলো বলার।
আজ বলছি, তোর নাম উহ্য রেখেই। সেই নামেই বলি, যে নামে দুজনেই দুজনকে ডাকতাম,
” তোকে এই এত্ত এত্ত এত্ত ভালোবাসি রে অবাবিল”
কোনো? – “সেই তুমি কেনো এত অচেনা হলে?”
ঋণ
(১) কবির সুমন, (২) আইয়ুব বাচ্চু, আজাম বাবু









